বাষা ভিব্রাট
শের-এ-পাঞ্জাবে বসেছি, অর্ডার দেবো, পাশের টেবিলে তিনজন এসে বসলেন। একজন অল্পবয়সী মহিলা, মুখ চোখ, বিশেষতঃ নাক দেখলে মনে হয় আদিবাসী, কিন্তু শিক্ষিত ও মার্জিত, নিশ্চয়ই কোনো উঁচু সরকারী পদে চাকরি করেন, সালোয়াল কামিজ পরিহিতা, হিন্দি আর ইংরেজিতে কথা বলছিলেন। সঙ্গে দুই ভদ্রলোক – একজন প্যান্ট আর হাফ হাতা বুশ শার্ট পরা, সম্ববতঃ মহিলার অধস্তন, কারন খুব বেশী মাখন মাখিয়ে কথা বলছিলেন আর ম্যাডাম ম্যাডাম করে গলে পড়ছিলেন, আর অন্যজনের কথাবার্তা শুনে মনে হল উনি সরকারি ঠিকাদার – উনি পরেছেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবী, পায়ে সাদা চটি, গলায় মোটা একটা সোনার চেন, চিক চিক করছে। মেনু কার্ড আসতেই অফিসের ভদ্রলোক বিড় বিড় করে ঠিকাদার বাবুকে কে কিছু একটা জিজ্ঞেস করলেন, ঠিকাদার মাথা নাড়লেন, অর্থাৎ যা খুশী অর্ডার দাও, বিল আমি মেটাবো। এবারে ভদ্রলোক ম্যাডাম কে নিয়ে পড়লেন “ম্যাডাম, আপ মাছলি খাতা হে তো? হিঁইয়া কা ইলশা খুব প্হেমাস হে”। ভদ্রমহিলা মাথা নাড়ছেন, কিন্তু এখনো ডিসাইড করে উঠতে পারেননি, একবার বললেন “চিকেন হ্যায় না?” কিন্তু ভদ্রলোক একশো আশী টাকায় এক প্লেট ইলিশ দেখে না খাইয়ে ছাড়বেন না। একটু ভ্যালু অ্যাড করার জন্যে বললেন “চিকেন তো আয়েগা নিশ্চিৎ, লেকি ইলশা ভি চাই তো? হিঁইয়া পাস মে নাদি হে। কি যেন, হাঁ, পাদ্দা নাদি হে। আর পাদ্দা নাদি কা ইলশা, সে তো বিসসোজোড়া প্হেমাস হে, খা কে তো দেখিয়ে!”
---
হিন্দি বিভ্রাট নিয়ে আমি অবশ্য সেই কোন ছোটবেলা থেকে সড়গড়। পাড়ায় থাকতেন পুরি আঙ্কেল, আন্টি, ডিপি আর রোসি। ওনারা পাঞ্জাবী, কিন্তু শিখ নন, আর্য্য পাঞ্জাবি, অর্থাৎ আড়িয়া পাঞ্জাবি, আমাদের বাঙালি জিভের আড়ে। ঠাকুমা খুব মিশুকে, কিন্তু ওই একজনকে ঠিক সহ্য করতে পারতেন না, ওই পুরি আন্টিকে, বলতেন - যত্ত আলকুশি। আলকুশি? জানেন না? এক ধরনের ফল, তাতে রোঁয়া থাকে, সেই রোঁয়া বিছুটির থেকে একশো গুন জ্বালাময়ী, এই রোঁয়ার চাপে আমাদের গ্রামের বুদ্ধ মাষ্টার এক সপ্তাহ হাস্পাতালে কাটিয়েছিল, বারান্দায় শুকোতে দেওয়া জাঙ্গিয়ার ভেতরে আলকুশি রেখে দিয়েছিল কেউ। তা, এই ক্ষেত্রে, আলকুশি অর্থে চুলকানি। কারন? কারন কিছুই না, উনি হাত-কাটা ব্লাউস পরেন। আমি কিছুতেই বুঝতে পারতাম না, ঠাকুমা তো মোস্টলি ব্লাউসই পরে না, হাত-কাটায় তো অন্ততঃ খানিকটা ঢাকা হল, তাই এতে রাগ করার কি আছে? যাই হোক, ঠাকুমা তেমন কথা না বলুক, নন্দী ঠাকুমার বলতেন। একদিন বিকেলে ডিপি রোসির মা রাস্তায় বেড়াচ্ছেন, নন্দী ঠাকুমা খেজুর করবেন, বললেন “বেড়াইতাসিলা?” ডিপি রোসির মা খুব অবাক হয়ে গেলেন “বরাত? বরাত কাঁহা হ্যায়? না না বাবা! আভি তো কিসি কি শাদ্দি-ওয়াদ্দি ভি নহি হ্যায়” নন্দী ঠাকুমা “না না” টা বুঝলেন, তাই বললেন “অ, তাইলে ঘুমাইতাসিলা বুঝি?” এটা আসলে বরিশালের রসিকতা, কিন্তু ডিপি রোসির মা আশ্বস্ত হয়ে বললেন “হাঁ হাঁ, অ্যাইসেহি, ঘুম রহি থি পর্চায়জি”। নন্দী ঠাকুমা বললেন “পরিশয়? আলাপ পরিশয় তো করতেই হইবো, নাহি?”
---
কুইন্স ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে অনেক গল্প আছে, তবে খুব ভাল লেগেছিল যখন আমাদের অফিসের পীযুষ কান্তি গিরি বলেছিল যে উইন্ডোজের টেস্কবারে সব পগ্রাম আছে। আরো ভালো লেগেছিল যখন আমাদের পাশের বাড়ীর ভাড়াটে মহিলা বলেছিলেন যে দাদা নাকি স্লিপলেস ম্যাক্সি পছন্দ করেন না, তাই বেশি দাম হলেও হাতা ওয়ালা জামাকাপড়ই কিনতে হয়, যদি ইন্সটলে হয়, তাহলেও।
আরেকটা গল্প আছে, সেটা হল রয় কে নিয়ে। দেবাশীষ রয়। উটি তে স্কুল, কিনিয়ায় কলেজ, সব মিলিয়ে পুরোদস্তুর সাহেব। সোনারপুরে বাবার বাড়ি, সেখানেই থাকে, কিন্তু বাংলা মোটেই বলে না। একবার প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে লেক গার্ডেনসের মোড়ে হাতে বন্ধ ছাতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখে শুভদীপ জিজ্ঞেস করেছিল, হোয়াট হ্যাপ্পেন্ড, রয়? রয়ের হাতে চাইনিস বোতাম টেপা ছাতা, এমন জিনিস কিনিয়ায় নেই, তাই বৃষ্টিতে ভিজছে, কিন্তু ছাতা খুলতে পারছে না। শুভদীপ বার বার বলছিল বোতাম টা টেপো, কিন্তু রয় সেটা না করায় শুভদীপ যখন বোতামটা টিপে খুলে দিল, তখন রয় বল্ল, ওহ, গুড গড, ইউ মেন্ট বাটন? এ হেন রয়ের যে বাংলায় ব্যুৎপত্তি থাকবে না, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। একবার খুব অযাচিত কিছু চেঞ্জ রিকোয়েস্ট এসেছে, রয় প্রোজেক্ট ম্যানেজার, উপল উত্তেজিত হয়ে রয়ের কাছে গিয়ে বল্ল “রয়, এটা কি হচ্ছে? হা-ডু-ডু খেলা? যা খুশি বললেই হল, চেঞ্জ হয়ে যাবে?” রয় খুব বোদ্ধা ভাব করে বল্ল “How do you do?” ঊপল আশা ছাড়েনি, বলল, আরে বাবা, হাডুডু মানে খেলা, কিতকিত! রয় আবার বল্ল, “kit – kat?” উপল চলে গেল, আর আসেনি।
---
তথ্যপ্রযুক্তির জগতে চাকরি করে দেশের নানা ভাগে গেছি। তবে উচ্চারন নিয়ে রকমফেরে দক্ষিনে যতটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, উত্তরে বা পশ্চিমে তেমন হয়নি। উত্তরে হিন্দি চলে, অসুবিধে তেমন হয়না। তাছাড়া চলে পাঞ্জাবি। সৌরভ একবার বলেছিল যে পাঞ্জাবি ভাষাও বলা খুব সহজ, হিন্দি বলতে হবে, আর মাঝে মাঝে একটু গালিগালাজ করতে হবে, তাহলেই পাঞ্জাবি বলা হয়ে গেল। কিন্তু পিন্ডা ভিচ্চি এমন কথা বললে মার হতে পারে, তাই বলার সাহস হয়নি। তবে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখতাম – দন্ত্যে স এর পরে যদি ক থাকে, তাহলে মাঝে হসন্ত থাকলেও লাভ নেই – সকুটারে চেপে যান, কিম্বা সকেটিং করে, এটা মাথায় রাখতেই হবে। শুধু নিজে বলার সময়ে হসন্তটা রাখলেই হল, ওনারা বুঝে নেবেন। তবে একবার একজনকে প্রিয়জন হারানোর দুঃখ ভোলাতে বলেছিলাম “ভগওয়ান উনকি আতমা কো স্কুন দে”, সেটা উনি তেমন ভালো মনে নেন নি। এই উত্তর ভারতেরই ছেলে, আমাদের স্কুলের অতুল মিশ্র, পার্থকে সান্তনা দেওয়ার সময়ে বলেছিল “পারথো, এতো চিন্তা কেন করছিস? জীবনে দুঃখ আর সুক্ষ, দোটোই আচে, আমার কাছে আস, দেখিয়ে দিবো”। আরেকবার দিল্লিতে গিয়ে হোটেলের রিসেপশানে ফোন করে বলেছিলাম “প্যানটা নোংরা আছে, কাউকে পাঠান, সাফ করে দেবে” – তাতে পরোটা পাঠিয়েছিল, আর ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিল “সর, প্র্যান্টা সাফ থি না?” – তবে এগুলো অকিঞ্চিৎকর। অমিত সিনহা পটল কে প্যাটোল বলেছিল, সেটা শুনে জাস্পিন্দার বলেছিল “pot hole”, এটাও অনেকের জানা। এমনকি অনেক কুমড়ো কে হিন্দিতে কামড়া বলেন, এটাও শুনেছি। কিন্তু দক্ষিনের মজা সেখানে নেই।
---
চেন্নাইয়ের হোটেলে রাত করে পৌঁছেছি, বেয়ারাকে ডাকলাম, সকালে উঠতে হবে। সুমন বলল “ডিম সেদ্ধ আর পাঁউরুটি বলে দিও”। বলছি, কিছুতেই বুঝতে পারছে না, শেষে ল্যাপ্টপে ছবি দেখিয়ে দিতে এক গাল হেসে বলল “মুট্টাই সার, ইয়েগ, আমা সার, মুট্টাই ইরকে সার!” যাহত্তেরি! তাই তো বলছিলাম। যাই হোক, সুমন বলল দুজনের ডিমসেদ্ধ আর জ্যাম দিয়ে পাঁউরিটি, এই নিয়ে যেন সকাল আটটায় ডেকে দেয়। আটটায় ঘুম ভাঙ্গাতে কেউ আসেনি, পরের দিন সকালে দশটার সময়ে ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙল – “সার, কালিং ফ্রাম রুম সাররভিস সার, ব্রেকফারস্ট রেডি সার!” গালাগালি দিয়ে লাভ নেই, বুঝবে না, তাই শুধু বললাম ওকে! এলো আট দুগুনে ষোলোখানা ডিমসেদ্ধ, আর কিচ্ছুটি নেই!
ওরাও না জানি কতই হেসেছে – শালা কলকাতার মাল, কোথায় ইডলি খাবে সকালে, তা না, আটটা করে ডিমসেদ্ধ খাচ্ছে, এরপর বায়ুদুষনে মরুক শালা!
---
তবে শুধু কলকাতার সঙ্গে বিরোধ আছে, তা নয় – একবার শুনেছি একজন পাঞ্জাবী ভদ্রলোক হিন্দিতে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলেন, বোধহয় এগমোর স্টেশানের রাস্তাটা কোন দিকে। তাতে নিরুপায় তামিল ভদ্রলোক জানতে চেয়েছিলেন “হিন্দি তেরিয়াদে সার, তামিল তেরিম্মা?” পাঞ্জাবী ভদ্রলোক এতে খুব রেগে বলেছিলেন “ওয়ে শালে, হিন্দি কি ইয়াদ মে তামিল আগার মেরি মা তো ফির পাঞ্জাবি তেরা বাপ!” আমার এমন কিছু হয়নি, তবে কিছু কিছু জিনিস হয়েছিল, যেগুলো লেখা যায়। একদিন দেখলাম লেক অ্যাভিনিউ এর এর দক্ষিনি মহিলা হিন্দিতে বলছেন পাশের বাড়ির বাঙ্গালী মহিলা কে “কল রাতা কো তো ম্যারা গার মে ছোর আয়া। রাজু কা পাপা তো পিচে বাগা, লেগিন ম্যারা কো তো ছাক্কার অ্যা গায়া!” রাজু যার নাম, সে পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল, জিজ্ঞেস করলো “আমা, ছক্কার ওয়ান্দে?” আম্মা একটু ভেবে বললেন “ছক্কর ওয়ান্দে...ওয়ান্দে...ঘু
---
পন্ডিচেরি, আজকের পুঁদুচ্চেরি, থেকে সোজা যাবো কালিকট। গাড়িতে চেন্নাই, তারপর সেখান থেকে ওভারনাইট ট্রেন। মাঝে অমলেট খেতে গিয়ে অম পাইনি, কিন্তু একটু লেট হয়ে গেল, তাই রাতের খাবারটা কেনা হয়নি। ট্রেনে উঠেই পড়লাম – নিশ্চয়ই কিছু পাওয়া যাবে। এ সি টু টিয়ার, আমার ওপরের বার্থটা ফাঁকা, সামনের সিটে দুজন বসে আছেন। আমি একটু হাসি মুখ করলাম, দুজনেই বেশ হাসলেন, একজন গুড ঈভনিং ও জানালেন। ট্রেন ছেড়ে দিল, আমিও একটু গপ্প জুড়ে দিলাম। দুজনেই যাবেন কালিকট, বর্তমানে কোজিকোড়, ওনাদের উচ্চারনে কোইকোড়। খাবার কোথায় পাবো, এটা বলতেই একজন বললেন গাড়পাড়ি তে ট্রেন দাঁড়াবে, সেখানে পাওয়া যাবে। ট্রেন দাঁড়ালো একটু পড়েই, দেখলাম স্টেশানের নাম কাটপাডি, পাশে লেখা “গেট ডাউন হিয়ার ফর ভেল্লুর”। সেখানে ইডলি পেয়েছিলাম, কিন্তু খেতে পারিনি, কারন সেই ইডলি সারাদিন ফারমেন্ট হয়ে একটু বমি বমি গন্ধ হয়ে গেছলো। যাই হোক, অনেক কষ্টে দুই ভদ্রলোকের ডিনার শেয়ার করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে ব্যাগ থেকে বিস্কুট বের করে খেয়ে নিলাম – রাত টা এতেই চলে যাবে। কিন্তু কালিকট যাব, কোন হোটেলে উঠবো, সেটা তো জানা হয়নি। আসলে যিনি বন্দোবস্ত করবেন, তিনি সেদিনই সন্ধ্যায় জানাবেন, এমনটাই ঠিক ছিল, কিন্তু তাড়াহুড়োয় চেন্নাই স্টেশানের থেকে ফোন করা হয়নি। সামনের একজনের কাছে জানতে চাইলাম – এনি গ্যুড হোটেল নিয়ার রেইলওয়ে স্টেশান? উনি সঙ্গে সঙ্গে না এর মতো করে মাথা হেলিয়ে বললেন “ইয়েস সার, গ্যুড ওটেল, গ্যুড ফুডা! কীদা পাওয়ান!” আমি একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলাম “কিদা পাওান?” উনি মাথা নাড়লেন, বললেন “নো সার, কিদা, কি, দা, পা ওয়ান”। আমি উপায়ন্তর না দেখে ব্যাগ থেকে ফটাস করে কাগজ আর পেন বার করে লিখলাম “Keeda Pawan”, তারপরে বাড়িয়ে ধরলাম। ঊনি আমার হাত থেকে পেন টা চেয়ে নিলেন, তারপর আমার লেখাটা কেটে দিয়ে লিখলেন “Geetha Bhawan”.
---
তবে শুধু দক্ষিণী নয়, আমি দু'টি ঔড্রদেশীয় ঘটনাও যোগ করি। প্রথমটা আমাদের ট্রেনিং ব্যাচের ঘটনা.....এক সহকর্মী PowerPoint presentation এ বলছে "দিস্ হেল্পস্ ডিউরিং রশ"। আমরা বাধ্যতামূলক জিজ্ঞাসা করলাম "রশ??!" সে আরও বার পাঁচেক "রশ" বলার পর খুবই হতাশ হয়ে বলল " রশ...রশ....ট্রাফিক রশ".....presentation 'signalling systems' এর ছিল। পরের ঘটনা একটি জনবহুল সম্মেলনের....মুখ্য অতিথি এক কানাডিয়ান ব্যাংকের Senior Vice President....আমাদের উচ্চপদস্থ কর্তা তাঁর পরিচয় দিয়ে বললেন "উই আর আ্যকচুয়ালি লাকি টু হ্যাব দিশ্ ইম্পোটেন্ট পার্শন উইত আস"...........পঁচাত্তর-বর্ষীয়া ভদ্রমহিলা এই সম্মানে কি ভেবেছিলেন আমরা কেউ জানিনা!
কিন্তু আরেকটা গল্প আছে। চিত্রপু ভরদ্বাজের গল্প। সে তেলুগু, কলকাতায় থাকতো তাই বাংলা জানতো অল্প অল্প, তাকে একবার shit in oil এর বাংলা করতে বলেছিলাম, মিনিট পাঁচেক ভেবে তারপর খুব রেগে গেছলো। আর একবার সঞ্চয়ন একটা কাগজের এক পিঠে early আর অন্য পিঠে yearly লিখে বলেছিল find the difference in pronunciation, ভরদ্বাজ দুটোকেই ইয়ারলি বলে, তাই মারতে গেছলো একদম।
Laughed. Snazzy. Cool. Just a suggestion : your target audience isn't as travelled as you are, do it might work better if you give the pun/fun in parenthesis after the joke. That way the "sardars" in us would enjoy the stories much more. 3Cheers!
ReplyDeleteThe satirical sense of humour in the article reminds me my favourite writer Tarapada Ray.....Great.... Amitabhada and as well as it makes me curious to read your views on the following topic..1.Matal.2.Romoni.3.Parokia 4.Doctor..and 5.Wife......but risk is yours.
ReplyDelete